ঢাকা ০৩:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোংলা বন্দরে ৯ মাসে ১ কোটি ৫ লাখ টন পণ্য আমদানি-রপ্তানি

নিজস্ব সংবাদ :

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং আধুনিক সুবিধা বাড়ানো, পলি অপসারণ এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার ফলে বন্দরের কার্যক্রমে এসেছে গতি।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে মোংলা বন্দর দিয়ে ৬৭৯টি জাহাজে ১ কোটি ৫ লাখ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়েছে।

বন্দরের হারবার বিভাগ জানায়, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক বন্দরে মন্দাভাব দেখা দিলেও মোংলা বন্দর তার কৌশলগত অবস্থান ও আধুনিক অবকাঠামো ব্যবহারের মাধ্যমে কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে।

বন্দরসংশ্লিষ্টরা জানান, ডলারের সংকট ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্লিংকার, সার, কয়লা, পাথর, গম, চাল ও হিমায়িত পণ্য আমদানির পাশাপাশি তৈরি পোশাক রপ্তানিতেও এই বন্দরের ব্যবহার বেড়েছে।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হওয়ায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পাশাপাশি ভারত, নেপাল ও ভুটানের ট্রানজিট সুবিধা মোংলা বন্দরের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, আউটার বার সম্পন্ন হওয়ার পর ইনার বার ড্রেজিংয়ের ফলে বড় ড্রাফটের জাহাজ এখন সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারছে। এছাড়া কনটেইনার ইয়ার্ড সম্প্রসারণ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের ফলে পণ্য খালাসের সময়ও কমেছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক মো. মাকরুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও মোংলা বন্দর তার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। জ্বালানি সংকটকে আমরা সুযোগ হিসেবে নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থাপনায় অপারেশন সচল রেখেছি। ভবিষ্যতে এই বন্দরকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক হাব হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।’

বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ী নেতারা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমাতে মোংলা বন্দর এখন আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে আমদানি করা গাড়ি খালাস ও দ্রুত সরবরাহব্যবস্থায় এই বন্দর দেশের মধ্যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:৫৪:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

মোংলা বন্দরে ৯ মাসে ১ কোটি ৫ লাখ টন পণ্য আমদানি-রপ্তানি

আপডেট সময় ১২:৫৪:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং আধুনিক সুবিধা বাড়ানো, পলি অপসারণ এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার ফলে বন্দরের কার্যক্রমে এসেছে গতি।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে মোংলা বন্দর দিয়ে ৬৭৯টি জাহাজে ১ কোটি ৫ লাখ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়েছে।

বন্দরের হারবার বিভাগ জানায়, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক বন্দরে মন্দাভাব দেখা দিলেও মোংলা বন্দর তার কৌশলগত অবস্থান ও আধুনিক অবকাঠামো ব্যবহারের মাধ্যমে কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে।

বন্দরসংশ্লিষ্টরা জানান, ডলারের সংকট ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্লিংকার, সার, কয়লা, পাথর, গম, চাল ও হিমায়িত পণ্য আমদানির পাশাপাশি তৈরি পোশাক রপ্তানিতেও এই বন্দরের ব্যবহার বেড়েছে।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হওয়ায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পাশাপাশি ভারত, নেপাল ও ভুটানের ট্রানজিট সুবিধা মোংলা বন্দরের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, আউটার বার সম্পন্ন হওয়ার পর ইনার বার ড্রেজিংয়ের ফলে বড় ড্রাফটের জাহাজ এখন সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারছে। এছাড়া কনটেইনার ইয়ার্ড সম্প্রসারণ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের ফলে পণ্য খালাসের সময়ও কমেছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক মো. মাকরুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও মোংলা বন্দর তার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। জ্বালানি সংকটকে আমরা সুযোগ হিসেবে নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থাপনায় অপারেশন সচল রেখেছি। ভবিষ্যতে এই বন্দরকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক হাব হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।’

বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ী নেতারা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমাতে মোংলা বন্দর এখন আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে আমদানি করা গাড়ি খালাস ও দ্রুত সরবরাহব্যবস্থায় এই বন্দর দেশের মধ্যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।