ঢাকা ০৫:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সম্পত্তি হস্তান্তর বিলে বিরোধী দলের ভূমিকায় ধন্যবাদ জানালেন হেফাজতের নায়েবে আমির

নিজস্ব সংবাদ :

সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দিন রব্বানী। একই সঙ্গে হেবা বা দানের নামে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন না করার আহ্বান জানিয়ে পাস হওয়া বিলটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী এসব কথা বলেন।

মাওলানা মুহিউদ্দিন রব্বানী বলেন, সংসদে বিতর্কিত এ আইনটি নিয়ে আলোচনার সময় বিরোধী দল শরিয়াহর পক্ষে ভূমিকা পালন করায় ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তবে সরকারি দলে আলেম ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিরা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে শরিয়াহবিরোধী এমন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলো, তা বোধগম্য নয়।

জাতীয় সংসদের স্পিকারের আসনের ওপরে ‘কালিমায়ে তায়্যিবা’ স্থাপনের প্রসঙ্গ টেনে হেফাজতের এই নেতা বলেন, একদিকে সংসদে কালিমা শোভা পাচ্ছে, অন্যদিকে সেই কালিমার আদর্শের বিরুদ্ধে আইন পাসের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—যা চরম সাংঘর্ষিক। প্রধানমন্ত্রীসহ অন্য মন্ত্রীরা আলেমদের কাছে দোয়ার জন্য গেলেও শরিয়াহর বিধান শেখার জন্য যান না।

কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন করা হবে না মর্মে রাষ্ট্রপতির আশ্বাসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আশ্বাস দেওয়ার পরও ইসলামি বিধানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের শরিয়াহবিরোধী উদ্যোগের বিরুদ্ধে ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

মাওলানা মুহিউদ্দিন রব্বানী আরো বলেন, ওলামায়ে কেরাম অতীতেও রক্ত দিয়েছেন, রাজপথে আন্দোলন করেছেন। এবারও কোরআনের আইনের বিরুদ্ধে আসা যেকোনো বাধা প্রতিহত করা হবে। অতীতেও দুঃশাসনের সময় এ জাতীয় উদ্যোগ রুখে দেওয়া হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত শাসকশ্রেণীকে পিছিয়ে আসতে হয়েছিল।

সম্পদ হেবা বা দান করা প্রসঙ্গে মুহিউদ্দিন রব্বানী বলেন, মানবতার দোহাই দিয়ে বৃদ্ধ বয়সে বাবা-মায়ের সম্পদ হেবা করে দেওয়ার নতুন নিয়ম গ্রহণযোগ্য নয়। যার সম্পদ, তিনি তা নিজের কাছেই রাখবেন। হেবা করতে হলে শরিয়াহ সম্মত প্রকৃত নিয়মেই করতে হবে।

অনুষ্ঠান থেকে তিনি পাস হওয়া এ বিলটিতে রাষ্ট্রপতিকে স্বাক্ষর না করার জোর আহ্বান জানান। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি যদি এ বিলে স্বাক্ষর করেন, তবে সারা দেশে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

বর্তমান সরকারকে ইসলামবান্ধব উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে সরকার সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রাখার পক্ষে, তাদের কাছ থেকে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন প্রত্যাশিত নয়। তাই এ-সংক্রান্ত বিলটি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৯:০৭:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সম্পত্তি হস্তান্তর বিলে বিরোধী দলের ভূমিকায় ধন্যবাদ জানালেন হেফাজতের নায়েবে আমির

আপডেট সময় ০৯:০৭:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দিন রব্বানী। একই সঙ্গে হেবা বা দানের নামে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন না করার আহ্বান জানিয়ে পাস হওয়া বিলটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী এসব কথা বলেন।

মাওলানা মুহিউদ্দিন রব্বানী বলেন, সংসদে বিতর্কিত এ আইনটি নিয়ে আলোচনার সময় বিরোধী দল শরিয়াহর পক্ষে ভূমিকা পালন করায় ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তবে সরকারি দলে আলেম ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিরা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে শরিয়াহবিরোধী এমন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলো, তা বোধগম্য নয়।

জাতীয় সংসদের স্পিকারের আসনের ওপরে ‘কালিমায়ে তায়্যিবা’ স্থাপনের প্রসঙ্গ টেনে হেফাজতের এই নেতা বলেন, একদিকে সংসদে কালিমা শোভা পাচ্ছে, অন্যদিকে সেই কালিমার আদর্শের বিরুদ্ধে আইন পাসের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—যা চরম সাংঘর্ষিক। প্রধানমন্ত্রীসহ অন্য মন্ত্রীরা আলেমদের কাছে দোয়ার জন্য গেলেও শরিয়াহর বিধান শেখার জন্য যান না।

কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন করা হবে না মর্মে রাষ্ট্রপতির আশ্বাসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আশ্বাস দেওয়ার পরও ইসলামি বিধানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের শরিয়াহবিরোধী উদ্যোগের বিরুদ্ধে ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

মাওলানা মুহিউদ্দিন রব্বানী আরো বলেন, ওলামায়ে কেরাম অতীতেও রক্ত দিয়েছেন, রাজপথে আন্দোলন করেছেন। এবারও কোরআনের আইনের বিরুদ্ধে আসা যেকোনো বাধা প্রতিহত করা হবে। অতীতেও দুঃশাসনের সময় এ জাতীয় উদ্যোগ রুখে দেওয়া হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত শাসকশ্রেণীকে পিছিয়ে আসতে হয়েছিল।

সম্পদ হেবা বা দান করা প্রসঙ্গে মুহিউদ্দিন রব্বানী বলেন, মানবতার দোহাই দিয়ে বৃদ্ধ বয়সে বাবা-মায়ের সম্পদ হেবা করে দেওয়ার নতুন নিয়ম গ্রহণযোগ্য নয়। যার সম্পদ, তিনি তা নিজের কাছেই রাখবেন। হেবা করতে হলে শরিয়াহ সম্মত প্রকৃত নিয়মেই করতে হবে।

অনুষ্ঠান থেকে তিনি পাস হওয়া এ বিলটিতে রাষ্ট্রপতিকে স্বাক্ষর না করার জোর আহ্বান জানান। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি যদি এ বিলে স্বাক্ষর করেন, তবে সারা দেশে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

বর্তমান সরকারকে ইসলামবান্ধব উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে সরকার সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রাখার পক্ষে, তাদের কাছ থেকে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন প্রত্যাশিত নয়। তাই এ-সংক্রান্ত বিলটি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।