কঙ্গোতে স্কুলে আগুন, মৃত্যু বেড়ে ২৬
গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলীয় শহর বুকাভুর স্কুলে আগুন লাগার ঘটনায় পদদলিত হয়ে কমপক্ষে ২৬ শিশুর মৃত্যু এবং ২৫ জন আহত হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাতিসঙ্ঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এ তথ্য জানিয়েছে।
আগুন থেকে বাঁচতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ওপরের তলার জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ে বলে জানা গেছে।
বার্তাসংস্থা এএফপিকে এক শিক্ষক জানান, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করার সময় আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রাণ বাঁচাতে ওপরের তলা থেকে লাফিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করে।
উজামা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইমন কাসামিরা চিকিৎসাধীন অবস্থায় একটি ক্লিনিক থেকে এএফপিকে বলেন, ‘ক্লাস চলার মাঝখানে হঠাৎ আমি শিক্ষার্থীদের চিৎকার শুনতে পাই। কেউ ওপরের তলা থেকে লাফ দিচ্ছিল, আবার কেউ দরজা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছিল।’
তিনি আরো বলেন, ‘চারদিক থেকে বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের খুঁজতে স্কুলে ছুটে আসেন। তখনই দেখি কাঠের তৈরি আমাদের স্কুলটি ভয়াবহ আগুনে পুড়ে যাচ্ছে।’
এএফপির এক সংবাদদাতা ঘটনাস্থলে দেখতে পান, স্থানীয় বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তল্লাশি চালানোর সময় সেখান থেকে ধোঁয়া উড়ছে।
কঙ্গোর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শকদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুনের কারণে স্কুলে ভয়াবহ পদদলিতের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীরা বের হওয়ার চেষ্টা করার সময় অনেকে পড়ে গেলে তাদের ওপর দিয়ে অন্যরা দৌড়ে যায় এবং তারা পদদলিত হয়।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, স্কুলের ভেতরে আটকা পড়া শিক্ষার্থীদের অনেকে ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে মারা যায়। প্রায় ৫০০ মিটার দূরত্বের তিনটি পৃথক স্থানে একই সময়ে আগুনের সূত্রপাত হয়।
ইউনিসেফ জানিয়েছে, এই ঘটনায় ২৫ শিশু আহত হয়েছেন।
বুকাভু দক্ষিণ কিভু প্রদেশের রাজধানী ও একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শহরটি রুয়ান্ডার সমর্থনপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী এম২৩-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলীয় ডিআর কঙ্গোর বিস্তীর্ণ এলাকা দখলের লক্ষ্যে এম২৩ তাদের অভিযান জোরদার করার পর শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।
শুক্রবার এম২৩ তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে। এম২৩-এর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃত ২৬ শিশুর মধ্যে ২০ জন ছাত্রী ও ছয়জন ছাত্র। শনিবার তাদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আফ্রিকার গ্রেট লেকস অঞ্চলের কিভু হ্রদের তীরে অবস্থিত বুকাভু শহরটি পাহাড়ের ঢালে নির্মিত কাঠের ঘরের জন্য পরিচিত। শহরটিতে প্রায়ই ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।
আগুনের কারণ জানতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কঙ্গোর কেন্দ্রীয় সরকার ও এম২৩—উভয় পক্ষই।
স্কুলের এই মর্মান্তিক ঘটনায় ডিআর কঙ্গোজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেশটি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সংঘাতের মধ্যে রয়েছে। বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী দেশটির বিভিন্ন এলাকা নিয়ন্ত্রণের জন্য লড়াই করে আসছে।
বৃহস্পতিবার কঙ্গোর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, বুকাভুতে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এর আগে গত অক্টোবরে বুকাভুতে আগুন লেগে ১৪ জনের মৃত্যু হয়। এদের বেশিভাগই ছিল শিশু।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কঙ্গোর শহরগুলোতে এসব ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এর অন্যতম কারণ হলো পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের অভাব। এছাড়া ভবনগুলোর মধ্যে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকা ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় অবৈধ সংযোগও আগুন লাগার ঝুঁকি বাড়ায়।
গত সপ্তাহে রাজধানী কিনশাসায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আগুন লেগে ১২ জনের মৃত্যু হয়।
কঙ্গোর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন এবং স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারের আগুনে শত শত বাড়িঘরও ধ্বংস হয়েছে।
ডিআর কঙ্গোর নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ডেনিস মুকওয়েগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র : বাসস


















